রবিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ |

মূলপাতা অর্থনীতি

‘মিথ্যার প্রাসাদ ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনর্জাগরিত করার লক্ষ্যেই এই বইমেলা’


প্রকাশের সময় :৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ৮:১০ : পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ২১ দিন ব্যাপী অমর একুশে বইমেলা। বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে বেলুন উড়িয়ে বইমেলা উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর শিরীণ আখতার।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

এবার বইমেলা উপলক্ষে আকর্ষণীয় রং লেগেছে মেলার তোরণে। আলোকিত মঞ্চ। দর্শক ও ক্রেতাদের উপস্থিতিও বেশ। বইমেলার প্রথমদিনে কথামালা, আড্ডা, কুশল বিনিময়ের মধ্যে কাটছে লেখক-প্রকাশক ও পাঠকের।

তবে, বেশিরভাগ স্টল সাজানোর কাজ শেষ। দুই-এক দিনের মধ্যে মেলা পরিপূর্ণতা পাবে এমনটি আশা প্রকাশকদের।

 

প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ৩০০ বর্গফুট জায়গায় ৩২টি ডাবল ও ৭৬টি সিঙ্গেল স্টলে চট্টগ্রাম ও ঢাকার সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিচ্ছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হলো- প্রথমা, অক্ষরবৃত্ত, ঝিলমিল, বাতিঘর, শৈলী, বলাকা, প্রজ্ঞালোক, ইতিহাসের খসড়া, চন্দ্রবিন্দু, রাদিয়া, মনন, কথন, পূর্বা, নন্দন বইঘর, সালফি, কিডস, ঝিলমিল, বিদ্যানন্দ, গল্পকার, কথাবিচিত্রা, হাওলাদার, কাকলী, ভোরের কাগজ, তাম্রলিপি, আদিগন্ত, বাবুই, রোদেলা, চারুলিপি, চর্চা গ্রন্থ প্রকাশ, চন্দ্রাবতী একাডেমি, শিশু একাডেমি, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ইত্যাদি।

 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, একাত্তরে যে চেতনার ভিত্তিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে পুরো জাতি এক হয়ে লড়েছিল সে চেতনার ধারা আজ দুর্বল হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর অকাল প্রয়াণের পর স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ক্ষমতা দখল করে জনগণ বিশেষ করে শিশুদের মগজধোলাই করে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। বইমেলার মাধ্যমে মিথ্যার প্রাসাদ ভেঙে জনগণের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনর্জাগরিত করতে এই বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। বইমেলার প্রতিটি বই হয়ে উঠুক মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের অস্ত্র।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা মুঠোফোন ও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তারা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বই অন্যতম বন্ধু, যা তাদের মুঠোফোন ও মাদকের আসক্তি থেকে দূরে রাখবে। সৃজনশীল মেধাবী প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।

প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নে চাই শিক্ষার উন্নয়নে। আর, ভালো মানের বই ছাড়া ভালো শিক্ষা ব্যবস্থা গড়া সম্ভব নয়। এই বইমেলা চট্টগ্রামের হাজারো বইপ্রেমীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে, যা আমাদের একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে সাহস জোগাবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহ্উদ্দিন মো. রেজা, বই মেলার আহ্বায়ক কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ (মঞ্জু), চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু, সাধারণ সম্পাদক আলী প্রয়াস, কাউন্সিলর গাজী মো. শফিউল আজিম, হাসান মুরাদ বিপ্লব, নাজমুল হক ডিউক, আবদুস সালাম মাসুম, মো. শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, সংরক্ষিত কাউন্সিলর তছলিমা বেগম নুরজাহান, রুমকি সেনগুপ্ত চসিক সচিব খালেদ মাহমুদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ, শিক্ষা কর্মকর্তা উজালা রানী চাকমা, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা মহাজন, উপ-সচিব আশেক রসুল চৌধুরী (টিপু), নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা ফজলুল কাদের, জনসংযোগ ও প্রটোকল কর্মকর্তা আজিজ আহমদ এবং সিবিএ সভাপতি ফরিদ আহমদ, সিনিয়র সহ সভাপতি জাহিদুল আলম চৌধুরী, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার চৌধুরী প্রমুখ।

এবারের মেলার অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে- নজরুল দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২১ ফেব্রুয়ারি, লোক উৎসব, রবীন্দ্র উৎসব, তারুণ্য উৎসব, নারী উৎসব, বসন্ত উৎসব, মরমী উৎসব, আবৃত্তি উৎসব, নৃগোষ্ঠী উৎসব, লেখক সমাবেশ, যুব উৎসব, শিশু উৎসব, পেশাজীবী সমাবেশ, মুক্তিযুদ্ধ উৎসব, ছড়া উৎসব, কুইজ প্রতিযোগিতা, চাটগাঁ উৎসব, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বইমেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

মেলা প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা ও ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দেশের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ প্রতিদিনের বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেবেন।


আরও খবর